‘আড়াল’ থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি - Vikaspedia

‘আড়াল’ থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর কিছু দিন পরই হঠাৎ দৃষ্টির আড়ালে চলে যান রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় তাকে দেখা যায়নি অনেক দিন।

তিনি কোথায় আছেন, তা নিয়ে শুরু হয় জল্পনা।
অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) দেখা দিয়েছেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু। ইউক্রেন যুদ্ধের তত্ত্বাবধানে থাকা এই ব্যক্তি ১১ মার্চ থেকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।

রাশিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা আরআইএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে দেখা যায় সের্গেই শোইগুকে। সেখানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

ওই ভিডিও ক্রিনে পুতিনের পাশে শোইগুকে দেখা যায়। অনুষ্ঠানে তিনি জুমে অংশ নিয়েছিলেন। সেই ক্লিপটিতে কোনো অডিও ছিল না এবং শোইগুকে কথা বলতে দেখা যায়নি।

কে এই সের্গেই শোইগু?
পুতিনের দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন সের্গেই শোইগু, যিনি ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ এবং পশ্চিমাদের তথাকথিত সামরিক হুমকি থেকে রাশিয়াকে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধের বিষয়ে প্রথম থেকেই অনড়।

তিনি প্রেসিডেন্ট পুতিনের এতটাই ঘনিষ্ঠ যে, তার সঙ্গে শিকার করতে এবং মাছ ধরতে সঙ্গী হিসেবে সাইবেরিয়ায় যান এবং তাকে একসময় পুতিনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হয়েছিল।

সমর বিশেষজ্ঞ ভেরা মিরোনোভা বলেন, ২০১৪ সালে সামরিক অভিযান চালিয়ে ক্রিমিয়া দখলের সাফল্যের কৃতিত্ব তাকে দেওয়া হয়। তিনি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউর দায়িত্বেও ছিলেন। নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগ করে বিষক্রিয়ার দুটি ঘটনার জন্যও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। যুক্তরাজ্যের সলসবারিতে ২০১৮ সালের ভয়াবহ হামলা এবং ২০২০ সালে সাইবেরিয়ায় বিরোধী নেতা অ্যালেক্স নাভালনির ওপর প্রায় প্রাণঘাতী হামলার পেছনেও ছিল তার নাম।

এই সমর বিশেষজ্ঞ বলেন, শোইগু শুধুমাত্র সামরিক বাহিনীর দায়িত্বে নন, তিনি আংশিকভাবে মতাদর্শের দায়িত্বেও রয়েছেন। রাশিয়ায় মতাদর্শ মানে মূলত দেশটির ইতিহাস এবং তিনি এই ইতিহাসের বয়ানটা ঠিক কী হবে, সেটি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছেন। যদিও চিফ অফ স্টাফ হিসেবে ইউক্রেন আক্রমণ করা এবং দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করা তার কাজ হলেও সেই দায়িত্ব তিনি ঠিকমত পালন করতে পারেননি।

১৯৯৯ সালের চেচেন যুদ্ধে সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর থেকেই তিনি ভ্লাদিমির পুতিনের সামরিক অভিযানে একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান পরিকল্পনায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় ছিলেন। গত মাসে বেলারুসে সামরিক মহড়ার তত্ত্বাবধানেও ছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ইউক্রেনে ২৪ ফেব্রুয়ারি সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। এক মাস ধরে এই যুদ্ধ চলছে। রুশ সেনাদের হামলায় ইউক্রেনে বাস্তুচ্যুত হয়েছে অন্তত এক কোটি মানুষ। এর মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে ৩৬ লাখ। দেশটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।