ইসলামে যাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয় - Vikaspedia

ইসলামে যাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়

কোনো বিষয় সত্যায়ন ও বিচার-মীমাংসার জন্য সাক্ষ্যের প্রয়োজন হয়। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে কিছু মানুষের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। যেমন—আত্মসাৎকারী পুরুষ ও নারীর সাক্ষ্য, কারো বিপক্ষে তার শত্রুর সাক্ষ্য, ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীর সাক্ষ্য, কাউকে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়ে তার বিরুদ্ধে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে না পারার দরুন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাক্ষ্য,

কোনো পরিবারের পক্ষে তাদের কাজের লোকের সাক্ষ্য এবং ইসলামী শরিয়তের বিধি-বিধানের ব্যাপারে একেবারে অজ্ঞ লোকের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) আত্মসাৎকারী পুরুষ ও নারীর সাক্ষ্য এবং কোনো মুসলিম ভাইয়ের বিপক্ষে তার শত্রুর সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেন।

তেমনি তিনি প্রত্যাখ্যান করেন কোনো পরিবারের পক্ষে তাদের কাজের লোকের সাক্ষ্য। অন্য বর্ণনায় আছে, কোনো ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীর সাক্ষ্যও ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৬০০; ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৩৯৫)
অন্যদিকে জ্ঞানীদের বিপক্ষে অজ্ঞ লোকদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোনো মরুবাসীর সাক্ষ্য শহুরে ব্যক্তির বিপক্ষে বৈধ নয়। কারণ মরুবাসী ইসলামী শরিয়তের বিধি-বিধান না জানার দরুন সাক্ষ্য গ্রহণ ও প্রদান সম্পর্কে নিতান্ত অজ্ঞ। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৬০২; ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৩৯৬)

আর যাকে সাক্ষী বানানো হয়েছে, তার দায়িত্ব হলো সত্যসাক্ষ্য দেওয়া। ইসলামের দৃষ্টিতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়াও জঘন্যতম গুনাহের কাজ। একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) হেলান দিয়ে বসে ছিলেন। এ অবস্থায় তিনি সাহাবাদের বলেন, কবিরা গুনাহ সম্পর্কে কি আমি তোমাদের বলব? সাহাবারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল, বলুন। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, অন্যতম কবিরা গুনাহ হলো, কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করা (শিরক করা), মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া। এ কথা বলে নবী করিম (সা.) সোজা হয়ে বসেছেন এবং বলেছেন, মিথ্যা সাক্ষী দেওয়া। এ কথা তিনি তিনবার বলেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৬৫৪)

কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য ও অপবাদ রটনার মাধ্যমে ওই ব্যক্তির ওপর জুলুম করা হয়। আর জুলুমের কারণে সমাজ ও রাষ্ট্রে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দেয়। এ বিপর্যয় কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যক্তির ওপর আসে না; বরং সবাই এর ভুক্তভোগী হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকার জন্য সতর্ক করেছেন। কেননা আল্লাহ তাআলা মজলুমের দোয়া কখনো ফেরত দেন না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা ভয় করো ফিতনাকে, যা তোমাদের মধ্য থেকে শুধু জালিমদের ওপরই আপতিত হবে না (সবার ওপর আসবে)। আর জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ আজাব দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর। ’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ২৫)