‘এখন ইতিহাস নিয়ে অনেক হিসাব-নিকাশ করে কথা বলতে হয়’ - Vikaspedia

‘এখন ইতিহাস নিয়ে অনেক হিসাব-নিকাশ করে কথা বলতে হয়’

সরকার ও তাদের সমর্থকদের সমালোচনা করে গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, এখন ইতিহাস নিয়ে কথা বলতে গেলে অনেক হিসাব-নিকাশ করে বলতে হয়। কারণ ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে দেবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বানিয়ে দেবে।

শুক্রবার (১১ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। ভাষা আন্দোলনের সংগঠক প্রিন্সিপাল আবুল কাশেমের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বাঙলা উত্তরাধিকার’ নামে একটি সংগঠন ‘বাংলা ভাষা: সংকট ও সমস্যার সমাধান করণীয়’ শীর্ষক এ বৈঠকের আয়োজন করে।

নুরুল হক বলেন, এখন বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে কথা বললে সমস্যা। তার কথা বললে বাংলাদেশে বড় একটি অংশ আছে, যারা বঙ্গবন্ধুর দল করে না, তারা নাখোশ হয়। সেজন্য ব্যালেন্স করে বলতে হয়, তাদের নেতাদের কথাও। আমরা বলি, যার যতটুকু সম্মান আমরা সেটুকু দিতে চাই।

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব বলেন, ভাষা সৈনিক গাজীউল হকের কথায়, সামগ্রিকভাবে ভাষা আন্দোলন দিয়ে যদি ছন্দময় একটি কাব্য বিবেচনা করা যায়, তাহলে প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম সে কাব্যের উপেক্ষিত নায়ক। ভাষা আন্দোলনে তিনি নায়ক, কিন্তু উপেক্ষিত। আমরা এখন দেখি, ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে পড়াশোনা নেই, ইতিহাস সম্পর্কে পড়াশোনা নেই; এমন বিভিন্ন জনকে ভাষা আন্দোলনের নায়ক বানিয়ে দেওয়া হয়।

‘কিছুদিন আগে একজন ব্যক্তি সাংবিধানিক পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের অবস্থা নিয়ে বই লিখেছেন। কিন্তু প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন। তাই আমি বলতে চাই, ভাষা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। ভাষা তার জায়গায় আছে। সমস্যা আমাদের ব্যবহারকারীদের, আমাদের প্রয়োগে।’

ডাকসুর সাবেক ভিপি বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে শহীদ মিনার ধুয়ে মুছে চকচক করা হয়। তিন স্তরের নিরাপত্তা দেওয়া হয়। কিন্তু অন্য সময়ে কুকুর-বিড়াল আর মাদকাসক্তদের আড্ডাখানায় রূপান্তর হয়ে যায় সেটি। সেগুলো দেখার কেউ নেই। এক দিনের কৃত্রিমতা দিয়ে কী হবে? যারা সম্মান প্রাপ্য তাদের সম্মান দেওয়া হয় না।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাঙলার উত্তরাধিকারের আহ্বায়ক আবু তৈয়ব হাবিলদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাখাওয়াত আনসারী, সাবেক সচিব কাশেম মাসুদ প্রমুখ।