চাপে পড়ে তরুণীকে বিয়ে, পরে ভাইকে ফাঁসাতে ‘পরিকল্পিত’ হত্যা - Vikaspedia

চাপে পড়ে তরুণীকে বিয়ে, পরে ভাইকে ফাঁসাতে ‘পরিকল্পিত’ হত্যা

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় এক তরুণীকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় মূলহোতা আব্দুর রাজ্জাক (৬০) নামে এক ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) দুপুরের দিকে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আহমার উজ্জামান বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত ১৫ মার্চ ওই উপজেলার গোয়াতলা সড়কের পাশ থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় মরদেহের পাশে এক যুবকের জন্ম নিবন্ধনের কাগজ উদ্ধার করা হয়। পরে ওই সূত্র ধরে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে জেলা ডিবি পুলিশ।

এসপি মো. আহমার উজ্জামান জানান, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ধোবাউড়ার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাংগাটী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক গাজীপুর জেলার গাছা রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় বাস করতেন আব্দুর রাজ্জাক। সেখানেই পরিচয় হয় নরসিংদী জেলার মাধবপুর উপজেলার খিলগাঁও গ্রামের অটোরিকশা চালক দুলাল মিয়ার মেয়ে পোশাক কারখানার কর্মী রিভা আক্তারের (২০) সঙ্গে। তখন রাজ্জাক নিজেকে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দিয়ে রিভা সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। পরে টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে টানা দুই মাস মেয়েটিকে তিনি ধর্ষণ করেন।

এর কিছুদিন পর প্রতারক রাজ্জাককে বিয়ের জন্য চাপ দেন রিভা। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে নিজের থেকে বয়সে ৪০ বছরের ছোট রিভাকে বিয়ে করেন ষাটোর্ধ্ব আব্দুর রাজ্জাক। ফলে একদিকে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে রিভার অব্যাহত চাপ ও অন্যদিকে ভাইয়ের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাই-ভাতিজাদের ফাঁসাতে পরিকল্পনা শুরু করেন রাজ্জাক। পরে পরিকল্পিতভাবে গাজীপুর থেকে রিভাকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় নিয়ে এসে গত ১৫ মার্চ কংশ নদের পাশে ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যান রাজ্জাক। ওই সময় সে পরিকল্পনা অনুযায়ী তার ভাই-ভাতিজাকে ফাঁসাতে একটি জন্ম নিবন্ধনের কাগজ মরদেহের পাশে ফেলে রাখেন তিনি।

এসপি আহমার উজ্জামান আরও জানান, ঘটনার একদিন পর খুনি রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয়। পরে থানায় জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেই রিভা হত্যাকাণ্ড ও পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর হবে।