চার বছরে দুই বিয়ে রুমেনার, গোপনে ১০ বছর পুলিশে - Vikaspedia

চার বছরে দুই বিয়ে রুমেনার, গোপনে ১০ বছর পুলিশে

বিয়ের তথ্য গোপন করে পুলিশে যোগ দিয়ে ১০ বছর ধরে দিব্যি চাকরি করে যাচ্ছেন কনস্টেবল রুমেনা আক্তার। চাকরিতে যোগদানের ৪ বছরের ব্যবধানে প্রথম স্বামীকে ছেড়ে দ্বিতীয় সংসারও শুরু করেন তিনি। চাকরি জীবনের ১০ বছরের ভেতরে নিজের নামে ২১ লাখ টাকা মূল্যের জমিও কিনেছেন এ নারী পুলিশ সদস্য। রুমেনা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের রেশন স্টোরে কর্মরত রয়েছেন।

তার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নতুনপাড়া গ্রামে। ২০১১ সালের ১৯ এপ্রিল পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। পুলিশের বিধান অনুযায়ী কনস্টেবল পদে যোগদান করতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে। কিন্তু, রুমেনা আক্তার প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করেই পুলিশে যোগ দেন।

জানা গেছে, চাকরিতে যোগদানের আগে রুমেনা আক্তারের সাথে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে শামসুজ্জামানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়। পুলিশে যোগদানের পর রুমেনা থাকতেন সিলেট জেলা পুলিশ লাইনসে আর শামসুজ্জামান নিজ বাড়ি ইব্রাহিমপুরেই বসবাস করতেন। একসময় শামসুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন রুমেনা।

স্ত্রীর বদলে যাওয়ায় শামসুজ্জামান সিলেটে ছুটে আসেন। এসে শুনতে পান রুমেনা তার এক সহকর্মীর সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক তৈরি করেছেন। অনেক চেষ্টা করেও সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি। একসময় রুমেনার সঙ্গে শামসুজ্জামানের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর রুমেনাকে সিলেট জেলা পুলিশ থেকে মৌলভীবাজার পুলিশ লাইনসে বদলি করা হয়। এরপর যোগ দেন মৌলভীবাজার সদর থানায়। মৌলভীবাজার সদর থানায় যোগদানের পর ঐ থানায় আগে থেকে কর্মরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রফিকুল ইসলাম রানা নামে আরেকজনের সঙ্গে নতুন করে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রুমেনা।

এরপর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট এএসআই রফিকুলের সঙ্গে রুমেনা আক্তারের আবারও বিয়ে হয়। সুনামগঞ্জ শহরের রুমেনার এক বোনের বাসায় ঐ বিয়ে সম্পন্ন হয়। এই সংসারে তার এক ছেলে সন্তান রয়েছে। বর্তমানে তার বয়স প্রায় ৬ বছর।

মৌলভীবাজার থেকে বদলি হয়ে সিলেট জেলা পুলিশে আসেন রুমেনা। এরপর ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি সিলেট মহানগর পুলিশের এসএমপি/হেডকোয়ার্টার্স এন্ড অ্যাডমিন বিভাগ/সাপ্লাই/রেশন স্টোরে যোগদান করেন। ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই জায়গায় বহাল তবিয়তে আছেন কনস্টেবল রুমেনা আক্তার। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কনস্টেবল রুমেনা আক্তারের সম্পর্ক নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে নানা গুঞ্জনও রয়েছে।

রুমেনার প্রথম স্বামী সাজ্জাদ বলেন, সুনামগঞ্জ শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরির সুবাদে রুমেনার সঙ্গে পরিচয় হয়। তার পুলিশের চাকরিতে যোগদানের আগে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর সে কনস্টেবল পদে যোগদান করে। তার চাকরির জন্য আমাকে অনেক তদবির করতে হয়েছে। পুলিশে যোগ দেওয়ার পর রুমেনা বদলে যেতে শুরু করেন। পরিচিত দু’জনকে নিয়ে তাকে আমার দিকে ফেরানোরও চেষ্টা করি। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফুল্যাহ তাহের জানান, তথ্য গোপন করে কেউ চাকরিতে প্রবেশ করলে কর্তৃপক্ষ অবশ্যই বিষয়টি দেখবেন। তাছাড়া কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।