জাহাজের টাওয়ারে উঠতেই হাদিসুরের উপর পড়ে রকেট বোমা, ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয় দেহ - Vikaspedia

জাহাজের টাওয়ারে উঠতেই হাদিসুরের উপর পড়ে রকেট বোমা, ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয় দেহ

ইউক্রেনে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’তে রকেট হামলায় জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমান (৩৩) নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার ৩ নম্বর হোসনাবাদ ইউনিয়নে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের চাচা বেতাগী উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান ফোরকান।

বৃহস্পতিবার রাতে তিনি বলেন, আমার চাচাত ভাই মাদরাসাশিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে হাদিসুর। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমি থেকে লেখাপড়া করে বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগ দেন তিনি।

বুধবার রাত ১০টার পর ইউক্রেন থেকে ঐ জাহাজে থাকা নাবিকরা হাদিসুর রহমানের বাড়িতে ফোন করে তার নিহতের খবর জানায়। সেই সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধের কারণে ঐ এলাকায় তেমন নেটওয়ার্ক ছিল না। জাহাজেও তেমন নেটওয়ার্ক পাচ্ছিল না। এজন্য হাদিসুর মোবাইলের টাওয়ারে নেটওয়ার্ক পেতে ওঠে। তখনি তার উপর রাশিয়ার রকেট বোমাটি নিক্ষিপ্ত হয়। এতে তার দেহ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়।

তিনি আরো বলেন, নিহত হাদিসুর রহমানের বয়স ৩৩। পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, এবার বাড়ি ফিরলে তাকে বিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। আমরা এখন দুশ্চিন্তায় আছি যে, হাদিসুরের মরদেহ দেশে কিভাবে আনব। যুদ্ধের কারণে যেখান থেকে জাহাজই বের হতে পারছে না, সেখানে হাদিসুরের মরদেহ নিয়ে আসাটা আদৌ সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

মাকসুদুর রহমান ফোরকান বলেন, সকালে জেলা প্রশাসকের কাছে যাব, মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সহযোগিতা চাইব।

হাদিসুর রহমানের মৃত্যুর খবর আসার পর পুরো এলাকায় শোক নেমে এসেছে- জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আগে থেকেই বিচলিত ছিলাম। কারণ, হাদিসুর পাঁচ দিন আগে তার মাকে মোবাইলে জানিয়েছিল, যুদ্ধে আটকা পড়েছে। ফিরে আসতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সেও সন্দেহ প্রকাশ করেছিল। শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্য হলো। হাদিসুর আমাদের ছেড়ে চলে গেল।

ডেইলি বাংলাদেশ/