টাকা আত্মসাৎ, প্রতারককে পুলিশে দিলেন এলাকাবাসী - Vikaspedia

টাকা আত্মসাৎ, প্রতারককে পুলিশে দিলেন এলাকাবাসী

কখনো তিনি পুলিশ কর্মকর্তা, আবার কখনো পরিচয় দেন সেনাবাহিনীর বড় কর্মকর্তা। শুধু তাই নয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবেও পরিচয় দিতেন নিজেকে।

আর এসব উপাধির তকমা লাগিয়ে এরই মধ্যে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিয়েছেন ২০ লক্ষাধিক টাকা।
এমন পরিচয়ে এলাকায় ছোট ছোট দোকান থেকে কয়েক হাজার টাকার পণ্যও নিয়েছেন বাকিতে। এরপর হঠাৎ কৌশলে এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আশা উদ্দিন (৫০) নামে ওই প্রতারককে ধরে পুলিশে দিয়েছেন এলাকাবাসী।

শুক্রবার (০৪ মার্চ) দুপুরে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর কলতাসূতি মরিচকাটা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশে দেন এলাকাবাসী।

আটক প্রতারক আশা উদ্দিন নড়াইলের কালিয়া থানাধীন খররিয়া গ্রামের সাইফুদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি শিমুলিয়ার কলেজপাড় এলাকার ফিরোজের বাড়িতে স্ত্রী নার্গিস বেগমসহ ভাড়া থাকতেন। তিনি এর আগে রাজধানীর বারিধারার ডিপ্লোম্যাটিক জোনে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করতেন।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা জানান, আশা উদ্দিন বছর দুয়েক আগে আশুলিয়ার কলেজপাড় এলাকার ফিরোজের বাড়িতে ভাড়ায় ওঠেন। এলাকায় এসেই কৌশলে প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন এবং নিজেকে পুলিশ অফিসার পরিচয় দিতেন। আবার কোনো কোনো সময় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবেও দাবি করতেন। কিভাবে যুদ্ধ করেছেন সেই গল্পও শুনাতেন এলাকার চায়ের দোকানে। যাকে যেভাবে বোঝানো দরকার, সেভাবেই গল্প শুনাতেন। এলাকার কয়েকটি দোকান থেকে বাকিতে অনেক জিনিসপত্র নিতেন। সরকারি বড় অফিসার তাই বাকি টাকা সহজেই চাইতেন না দোকানিরা।

প্রতারণার স্বীকার ভুক্তভোগী দিলিপ কর্মকার বলেন, তিনি কলেজপাড় এলাকায় একটি জুয়েলারি দোকান দিয়ে ব্যবসা করেন। মাঝে মধ্যেই আশা উদ্দিন তার দোকানে আসতেন এবং গল্পগুজব করতেন। একপর্যায়ে নিজেকে পুলিশের বড় অফিসার পরিচয় দিতেন। এখানে তার নিজের বাড়ি আছে বলতেন। দোকানে মাঝে মধ্যে বসার সুবাদে ছেলেকে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়া যাবে কিনা এমন প্রস্তাব দিলে ৭ লাখ টাকা লাগবে বলে জানান আশা উদ্দিন। পরে তার কথা মত তাকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা দেই। কিন্তু দেড় বছর পার হলেও ছেলের চাকরির কোনো খবর নেই। বার বার তাগাদা দিলেও সে নানা টালবাহানা শুরু করেন। হঠাৎ খবর পাই, তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তাকে দেখতে পেয়ে আটক করে পুলিশে খবর দেই। এর আগে গত রাতে এলাকা থেকে মালামাল নিয়ে ট্রাকে করে পালিয়ে যাওয়া চেষ্টা করেছিলো আশা উদ্দিন।

অপর এক ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ বলেন, আমার ছেলেকে সরকারি অফিসে পিয়নের চাকরি নিয়ে দেবেন বলে ১০ লাখ টাকা নেন। এছাড়া আরও ৪ লাখ টাকা ধার হিসেবে নেন। কিন্তু বছর পার হয়ে গেলেও চাকরি দিতে পারেননি আশা উদ্দিন। গতকাল রাতে লোকমুখে খবর পাই তিনি ঘরের সব মালামাল নিয়ে গোপনে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে তাকে ধরে তার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে দুপুরে পুলিশে খবর দিলে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

এছাড়া কলতাসূতি মরিচকাটা এলাকার এক নারীকে ধর্মের বোন বানিয়ে তার কাছ থেকেও ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী ভোক্তভোগী জানান। ওই এলাকারই অপর এক যুবক রাজীবকে গুলি করে হত্যারও হুমকি দেন আশা উদ্দিন নামে সেই প্রাতারক।

প্রতারক আশা উদ্দিন চাকরির নামে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, পুলিশ বা কোনো কর্মকর্তা পরিচয় দিতেন না। আর দিলেও কেন তারা মেনেছেন?

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. তানিম হোসেন বলেন, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎ করেছে এমন অভিযোগে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা মামলা করতে চাইলে হবে। অথবা উভয়পক্ষ বসে আপস করলেও করতে পারে। এছাড়াও তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।