‘টাকা-পয়সা সবই নিয়ে যেতে বললেও স্ত্রী-মেয়েকে মেরে ফেলে’ - Vikaspedia

‘টাকা-পয়সা সবই নিয়ে যেতে বললেও স্ত্রী-মেয়েকে মেরে ফেলে’

বাড়িতে ঝামেলার কথা শুনেই স্ত্রী রুমা চক্রবর্তীর মোবাইলে ফোনে কল করেছিলেন স্বামী রাম প্রসাদ চক্রবর্তী। তবে স্ত্রী নয়, কলটি ধরেছিল ঘাতক জোবায়ের।

রিসিভ করেই টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার কোথায় আছে জানতে চায়, নাহলে স্ত্রী-সন্তান মেরে ফেলার হুমকি দেয়। রাম প্রসাদ সব নিয়ে যাওয়ার জন্য বললেও এর আগেই স্ত্রী রুমা ও মেয়ে ঋতু চক্রবর্তীকে দা দিয়ে কুপিয়ে নিস্তেজ করে দেয় ঘাতক।

মঙ্গলবার (১ মার্চ) বিকালে নারায়ণগঞ্জের ডালপট্টি এলাকায় ৬তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় রাম প্রসাদের স্ত্রী ও সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের লাশ। কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, বাসায় কল করার পর রিসিভ করে অপর প্রান্ত থেকে এক যুবক (জোবায়ের) বলে, টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার কোথায় আছে বলেন- না হলে ওদের মেরে (মা-মেয়েকে) ফেলবো। আমি বললাম, সব নিয়ে যাও, আর কী চাও? কিন্তু ততক্ষণে সে আমার স্ত্রী-মেয়েকে মেরে ফেলেছে।

রাম প্রসাদ বলেন, আমি ঘটনার সময় দোকানে কাজ করছিলাম। দুপুরে আমার বাড়িওয়ালার ভাতিজার কাছে শুনতে পাই, বাড়িতে ঝামেলা হয়েছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ফোন দেই আমার স্ত্রীকে (রুমা)। তখন আমার ফোন রিসিভ করে ওই ছেলেটা (জোবায়ের)।

কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে তিনি বলেন, এই ছেলেটাকে আমরা আগে কখনও দেখিনি। তার সঙ্গে আমাদের পরিবারের কারও কোনও সম্পর্ক নেই। কেন আমার পরিবারের লোকদের মারলো? আমরা কী ক্ষতি করেছি? আমি তার বিচার চাই।

তিনি বলেন, আমার মেয়ে ঋতু চক্রবর্তী (২২) সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। নিয়ম অনুযায়ী এই সময়ে বাবার বাড়িতে থেকে মেয়ের সেবাযত্ন করা হয়। তাই মেয়েকে আমার বাড়িতে রেখে সেবা যত্ন করছি। তাকেও হত্যা করেছে।

একমাত্র পুত্রবধূ শিলা হত্যাকাণ্ডের সময় ফ্লাটে উপস্থিত ছিলেন উল্লেখ করে রাম প্রসাদ বলেন, ঘটনার সময়ে আমার পুত্রবধূ শিলা ঘরের ভেতর ছিল। ছেলেটা (জোবায়ের) যখন কোপ দিতে তেড়ে আসে, তখন শিলা দা কেড়ে নেয় এবং দৌড়ে নিচে নেমে চিৎকার করে। পরে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে ছেলেটাকে আটক করে। আমার ছেলে ও পুত্রবধূ অন্যত্র বসবাস করে। গত ৩-৪ দিন ধরে শিলা আমাদের সঙ্গে আছে।

মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ ডালপট্টি এলাকায় ছয় তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন- রুমা চক্রবর্তী (৪৬) ও তার মেয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ঋতু চক্রবর্তী (২২)। ঘটনাস্থল থেকে জোবায়ের নামে এক যুবককে রক্তমাখা ছুরিসহ আটক করে পুলিশ। আটক যুবক শহরের পাইকপাড়া এলাকার আলাউদ্দিন ছেলে।

রুমার স্বামী রামপ্রসাদ চক্রবর্তী নারায়ণগঞ্জে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তাদের মেয়ে ঋতুর স্বামীর নাম শ্যামল ভট্টাচার্য। তিনি চাকরি সূত্রে চট্টগ্রামে থাকেন। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় গত কিছু দিন ধরে মায়ের সঙ্গে ছিলেন ঋতু।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. শাহজামান বলেন, খবর পেয়ে মা-মেয়ের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছি। তাদের খুন করা হয়েছে। আমরা একজনকে আটক করেছি।