দ্রুত নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা দিন - Vikaspedia

দ্রুত নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা দিন

‘দ্রুত নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে সরকারের পরিণতি ভয়াবহ হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (২৬ মার্চ) রাজধানীর নয়াপল্টনে স্বাধীনতার র‌্যালি পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এ র‌্যালির মাধ্যমে যে কথা বা বাণী পৌঁছিয়ে দিতে চাই শেখ হাসিনার কানে, এ অবৈধ সরকারের কানে যে, তোমার দিন শেষ। এ র‌্যালি থেকে আমরা হুঁশিয়ার করে দিতে চাই এখনও সময় আছে আমরা শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে বলতে চাই পদত্যাগ করুন, দ্রুত নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। অন্যথায় আপনারা পালাবারও পথ খুঁজে পাবেন না। সব ডিক্টেটর, সব স্বৈরাচারীর, সব ফ্যাসিবাদীর যে পরিণতি হয়েছে আপনাদেরও সেই একই পরিণতি হবে। ’

জিয়াউর রহমানসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে সারাদেশের মানুষ ৫০ বছর পরে এ আক্ষেপ করছে যে, আমরা ৫০ বছর হলো স্বাধীন হলাম, একটা স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনলাম, কী পেয়েছি আমরা? আজকে আমাদের কথা বলার স্বাধীনতা নেই, আজকে আমাদের নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবার স্বাধীনতা নেই। মানুষের গণতান্ত্রিক কোনো অধিকার নেই। আজকে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের পথে চলে গেছে। চাল-ডাল-তেল-লবণ সবকিছুর দাম এমনভাবে বেড়ে গেছে যে, সাধারণ মানুষ তা কিনতে পারে না। আজকে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। আবার নাকি গ্যাসের দামও নতুন করে বাড়াবে?’

খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রাখা, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাসিত করে রাখা, ৩৫ লাখ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গুম-খুনসহ সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। আজকে সব অন্যায়কে পরাজিত করতে হলে, গণতন্ত্র ফিরে পেতে হলে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে, আমাদের নেতা তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সমস্ত জাতি ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে এ ভয়াবহ দানবীয় যে ফ্যাসিস্ট সরকার আছে তাকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ’

দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ করে এ সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। ২৫ মিনিট সমাবেশ করে র‌্যালি শুরু হয়। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এ র‌্যালি শুরু হয়ে বিজয় নগর ও তোপখানা রোড হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

র‌্যালিতে রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকার পাশাপাশি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড।

ব্যান্ড সঙ্গীত দলের সুরের মূর্ছনা, পুরান ঢাকার ঘোড়া গাড়ি, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বে নানা দৃশ্য প্রদর্শন, লাল-সবুজ-হলুদ ক্যাপ পরা নেতাকর্মীদের এ স্বাধীনতার র‌্যালি দেখতে ফুটপাতের দুপাশে মানুষজনও ছিল ব্যাপক।

র‌্যালি শুরুর দুই ঘণ্টা আগে থেকেই ফকিরাপুল থেকে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্তোরাঁ মোড় পর্যন্ত তিল পরিমাণ ঠাঁই ছিল না। হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে র‌্যালি জনসমাবেশে রূপ নেয়। র‌্যালির অগ্রভাগ যখন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তখন শেষ ভাগ কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় অতিক্রম করছিল।

মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত র‌্যালিতে উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান ও দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম বক্তব্য রাখেন।

পরে র‌্যালিতে হেঁটে অংশ নেন- বিএনপির মহাসচিবসহ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শ্যামা ওবায়েদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামারুজ্জামান রতন, নাজিম উদ্দিন আলম, মীর সরফত আলী সপু, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আমিরুল ইসলাম আলীম, শামীমুর রহমান শামীম, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান, অঙ্গসংগঠনের মহানগরের আমিনুল হক, হাবিবুর রশীদ হাবিব, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, হাসান জাফির তুহিন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, আবুল কালাম আজাদ, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, শাহ নেসারুল হক, নজরুল ইসলাম তালুকদার, ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন, সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।

বিএনপির র‌্যালি উপলক্ষে দুপুর ১টা থেকে নয়াপল্টনের সড়কে যানচলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ফলে মতিঝিল, কাকরাইল, শাহজাহানপুর, শান্তিনগরসহ বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।