নিহত রুশ সেনাদের পরিচয় শনাক্তে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ইউক্রেন - Vikaspedia

নিহত রুশ সেনাদের পরিচয় শনাক্তে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ইউক্রেন

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর এক মাস হতে চলেছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধপরিস্থিতি এই দীর্ঘ সময়েও কোনো সমাধানের মুখ দেখেনি। ইউক্রেন দাবি করেছে যে ১৫ হাজারের বেশি রুশ সৈন্য মারা গেছে। আর চলমান যুদ্ধে মারা যাওয়া রুশ সৈন্যদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করতে ইউক্রেন ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যার ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী।

ইউক্রেনের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পালন করা মিখাইলো ফেদোরভ বুধবার (২৩ মার্চ) রয়টার্সকে বলেন, নিউইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্লিয়ারভভিউ এআই আমাদেরকে এ প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করছে।

ক্লিয়ারভভিউর প্রতিষ্ঠাতার দেওয়া তথ্যমতে, রুশ সামাজিক মাধ্যম ভিকনটাকটির মাধ্যমে তারা অন্তত ২ কোটির বেশি ছবি হাতে পেয়েছে। ইউক্রেনকে তারা বিনামূল্যে এ সেবাটি দিচ্ছে, এবং তারা এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যই রাশিয়াকে সরবরাহ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এদিকে ইউক্রেন তাদের মরদেহ দাবি করার জন্য রাশিয়ানদের জন্য একটি অনলাইন ফর্ম তৈরি করেছে।

উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কয়েক বছর আগে আবেদন করে ইউক্রেন। মূলত, এ নিয়েই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর মধ্যে ন্যাটো ইউক্রেনকে পূর্ণ সদস্যপদ না দিলেও ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে মনোনীত করায় দ্বন্দ্বের তীব্রতা আরও বাড়ে। ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন প্রত্যাহারে ইউক্রেনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে যুদ্ধ শুরুর দুই মাস আগ থেকেই ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় দুই লাখ সেনা মোতায়েন রাখে মস্কো। কিন্তু এই কৌশল কোনো কাজে না আসায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুই ভূখণ্ড দনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। ঠিক তার দুদিন পর ২৪ তারিখ ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে।

সূত্র : বিবিসি