পুতিনকে থামানো না গেলে কেউ নিরাপদ নয় - Vikaspedia

পুতিনকে থামানো না গেলে কেউ নিরাপদ নয়

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পরিস্থিতি ইতিমধ্যে দুই সপ্তাহ গড়িয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভিযান ঘোষণার কয়েক মিনিট পরেই ইউক্রেনে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে রুশ সেনারা।

এরপর থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে। ইউক্রেনে চলমান রুশ আগ্রাসনের সর্বত্মক হামালার মুখে জীবন বাঁচাতে ইউক্রেন ছেড়েছেন দেশটির লাখ লাখ নাগরিক। পাশ্ববর্তী দেশ ছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিচ্ছেন ইউক্রেনীয়রা। সম্প্রতি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি ওলেনা জেলেনস্কা।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যদি না থামানো যায় তাহলে বিশ্বের কোনো স্থানই কারো জন্য নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়।

এছাড়া ইউক্রেনে হামলা চালানো রুশ বাহিনী ‘গণহারে’ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে বলে এক খোলা চিঠিতে অভিযোগ করেছেন তিনি। রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলায় চিঠিতে দেশবাসীকে স্বাগত জানিয়েছেন ওলেনা জেলেনস্কা। সেই সঙ্গে রাশিয়ার আগ্রাসনকে ‘ভয়াবহ বাস্তবতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে ওলেনা জেলেনস্কা বলেছেন, ‘যে পুতিন পারমাণবিক যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিয়েছেন, সেই পুতিনকে যদি আমরা না থামাতে পারি তাহলে এই পথিবীতে কারো জন্যই নিরাপদ জায়গা বলতে কিছু থাকবে না।’ এসময় তিনি আরও বলেন, আমরা জিতব। কারণ, আমাদের একতা রয়েছে, দেশের প্রতি ভালোবাসা রয়েছে।

ফার্স্ট লেডি লিখেছেন, সত্যি সত্যি হামলা হবে, সেটা ‘বিশ্বাস করাও অসম্ভব ছিল’। আর এখন সেই যুদ্ধ লাখো ইউক্রেনীয়, বিশেষ করে শিশুদের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে এসেছে। এসময় তিনি বিশ্ববাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার জন্য আকাশপথ বন্ধ করায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। এই যুদ্ধে আমরা আমাদের ভূমিকে রক্ষা করতে পারব। ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া জেলেনস্কির সাহস ও নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্ব। তার স্ত্রী ওলেনা স্থাপত্যবিদ্যার ডিগ্রিধারী একজন চিত্রনাট্যকার। ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগের প্রচ্ছদেও তিনি এসেছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়ান সৈন্যরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে। একসঙ্গে তিন দিক দিয়ে হওয়া এই হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে।