ফাঁসির আগে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করেননি দুই আসামি - Vikaspedia

ফাঁসির আগে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করেননি দুই আসামি

চট্টগ্রামে রেলওয়ে কর্মকর্তা শফিউদ্দিনকে হত্যার ঘটনায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে দুই আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টায় তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রেলওয়ে কর্মকর্তা শফিউদ্দিন হত্যা মামলায় প্রায় ১৯ বছর পর এই ‍দুই আসামির শাস্তি কার্যকর করা হল।

এদিকে, ফাঁসির আগে নিজের সন্তানদের সঙ্গে দেখা করেননি দুই আসামি। তারা চাননি, তাদের ছেলেমেয়েকে কেউ খুনির সন্তান বলে অপবাদ দিক। তাদের গায়ে যেন এই অপবাদ না লাগে, সেজন্য ছেলেমেয়েকে কারাগারে এসে দেখা করতে নিষেধ করেছেন। একই সঙ্গে স্বজনদেরও কারাগারে আসতে নিষেধ করেছেন। কারণ, দেখা করতে এলে মানুষ চিনে ফেলবে তাদের ছেলেমেয়ে ও স্বজনদের।

দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন- নাইমুল ইসলাম ইমন ও শিপন হাওলাদার। শিপন হাওলাদারের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়ায় হলেও থাকতেন চট্টগ্রাম নগরের খুলশীর দক্ষিণ আমবাগানে। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের নাইমুল ইসলাম ইমন থাকতেন চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার ডেবারপাড় এলাকায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা কারাগারের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথম দিকে উগ্র আচরণ করলেও রায় ঘোষণার পর থেকে শান্ত হয়ে যান দুই আসামি। সারাদিন নামাজ আর কোরআন তিলাওয়াত করে সময় কাটান। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে তারা আমাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া শুরু করেন। প্রতিদিন দেখা হলেই অনুশোচনা করেন। শেষের দিনগুলোতে কয়েদিদের সঙ্গে বসে পরিবারের গল্প করতেন।

স্মৃতিকাতর হয়ে নিজেদের দোষারোপ করতেন। তবে শব্দ করে কান্না করতে দেখিনি তাদের। হাসতে হাসতে চোখ থেকে পানি বেয়ে পড়তে দেখেছি। সবার থেকে নিজেদের আলাদা করে নিয়েছিলেন। সবসময় চুপচাপ থাকতেন। আমরাও চেষ্টা করতাম কিছু চাইলে দেওয়ার জন্য। কিন্তু স্বজন ছাড়া কারও কাছেই কিছু চাইতেন না তারা।’

জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ বলেন, ‘তারা সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করলে তা খারিজ হয়ে যায়। ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে কারাবিধি অনুসারে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হয়। বিধি অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকরের আগে উভয়ের পরিবারের লোকজন তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। মঙ্গলবার সকালে দুই জনের সঙ্গে সন্তান ও স্বজনদের শেষ দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু তারা আসেননি।’

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ১৪ জুন চট্টগ্রামের খুলশীর উত্তর আমবাগান রেলওয়ে কোয়ার্টারের বাসায় রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী-১ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী শফিউদ্দিনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি স্থানীয় রেলওয়ের আমবাগান এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।

ওই সময় বিভিন্ন কারণে চার দফায় রেলওয়ের জায়গা থেকে অবৈধ বস্তি ও কলোনি উচ্ছেদ করে প্রশাসন। এসব ঘটনার জের ধরে সন্ত্রাসীরা তার সরকারি বাসায় ঢুকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাহমুদা বেগম বাদী হয়ে খুলশী থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০০৪ সালের ২৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল ২৩ জনের সাক্ষ্য নিয়ে দুই ঘাতক শিপন ও ইমনকে ফাঁসি, সাত আসামিকে যাবজ্জীবন এবং চার জনকে খালাস দেন।