বিএনপির নেতাদের পায়ের নিচে মাটি নেই - Vikaspedia

বিএনপির নেতাদের পায়ের নিচে মাটি নেই

স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গেই বিএনপি ঐক্যের রাজনীতি করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার (০৪ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির নেতাদের পরিকল্পিত মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানান কাদের।
তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা বলছে, তারা নাকি বিভাজনের রাজনীতি করে না। এটা ভূতের মুখে রাম রাম ধ্বনি ছাড়া কিছু নয়। এদেশের রাজনীতিতে বিএনপিই বিভাজন রেখা ও ঐক্যের সংকট সৃষ্টি করেছে। শুধু তাই নয়, সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি এবং রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহারের ধারক ও বাহক হলো বিএনপি। তাদের চাতুর্যপূর্ণ কথার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে ভয়ংকর কুৎসিত পরিকল্পনা।

কাদের বলেন, সংখ্যালঘু নির্যাতন যাদের অস্থিমজ্জায়, দুর্নীতি আর লুটপাট যাদের রাজনীতি―তারা যতই চটকদার কথা বলুক না কেন জনগণ এখন এসব অপকৌশলে আস্থা রাখে না। স্বৈরশাসন, অপপ্রচার, গুজব, মিথ্যাচার, দুর্নীতি, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও ধর্মান্ধতার রাজনীতির কারণে জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, চরম হতাশায় নিমজ্জিত বিএনপি নেতারা লাগাতার অসংলগ্ন, অবাস্তব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য করছে। দেশের ভেতরে নানামুখী অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড ও ধ্বংসাত্মক অপতৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশ ও জনগণবিরোধী ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে তারা এখন উদভ্রান্ত পথিকের মতো প্রলাপ বকতে শুরু করেছে। ক্ষমতার তৃষ্ণায় কাতর নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে মঞ্চ গরম করা বক্তব্য দেওয়া বিএনপি নেতারা ভালোভাবেই জানে তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই।

তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে আটক রাখা বা ছেড়ে দেওয়ার এখতিয়ার সরকারের নেই। কেননা তিনি দুর্নীতির দায়ে আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাদের আরেক নেতা তারেক রহমানও সন্ত্রাস এবং দুর্নীতির দায়ে আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। দুর্নীতি তাদের অস্থিমজ্জায়। সুতরাং দুর্নীতিকে বৈধতা দিতে বিএনপি তাদের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করেছে।

কাদের বলেন, দুর্নীতির রাজত্ব ও রাজনীতি কায়েম করতে গিয়ে বিএনপি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেশবাসী অতীতে প্রত্যক্ষ করেছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে খালেদা জিয়ার আহ্বানে বিএনপির আন্দোলনে জনগণ সাড়া দেয়নি। পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে তাদের সমাবেশ স্থল ছিল জনশূন্য। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জনগণের সাড়া না পেয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অগ্নিসন্ত্রাসের পথ বেছে নেয় দলটি।

২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে শতাধিক নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা এবং মানুষের বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করে বিএনপি। অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে দেশের জনগণ। ফলে জনগণের মুখোমুখি হওয়ার সৎ সাহস হারিয়ে ফেলেছে দলটি। তাদের স্বপ্নের মরা গাঙ্গে আর জোয়ার আসবে না।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি নাকি ঐক্যের রাজনীতি করে! জনগণ জানতে চায় এই ঐক্য কাদের সঙ্গে? বিএনপির ঐক্যের রাজনীতি তো স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে। তাদের ঐক্য সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ও জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে। তাদের তথাকথিত ঐক্যের মূলে দেশবিরোধিতা আর উন্নয়নবিমুখতা। তারা ঐক্য করে স্বার্থসিদ্ধি ও লুটপাটের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য। তাদের দুঃশাসন ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ইতিহাস তারই সাক্ষ্য বহন করে।

তারা বারবার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাই বিএনপিকে এদেশের মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। বাংলার জনগণ তাদের আর রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায় না।