ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা জানালেন ইউক্রেন ফেরত নাবিক মনসুর - Vikaspedia

ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা জানালেন ইউক্রেন ফেরত নাবিক মনসুর

২ মার্চ থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’র ২৯ জন নাবিকের একজন রাশিয়ার বোমা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আর ফিরে এসেছেন বাকি ২৮ জন। তাদেরই একজন সাতক্ষীরা শহরের নুরুল আমিন খান ওরফে সেলিম খানের নাবিক সন্তান মনসুরুল আমিন খান গিনি।
ইউক্রেন থেকে ফিরে এসে সেখানকার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

মনসুর বলেন, ২ মার্চ স্থানীয় সময় বিকাল ৫টার দিকে হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে উঠি আমরা। উপরে গিয়ে দেখি বিস্ফোরণ হয়েছে। ধোয়া উড়ছে, আগুন জ্বলছে। আমরা দ্রুত আগুন নেভানোর ব্যবস্থা করলেও ততক্ষণে হারিয়েছি আমাদের সহকর্মী এক নাবিককে। তাকে রেখেই আমাদের দেশে ফিরতে হলো।

তিনি আরো বলেন, আমরা আগুন দেখেছি, জাহাজ বিধ্বস্ত হতে দেখেছি, মৃত্যু দেখেছি। সে দৃশ্য ভয়াবহ। চারদিকে বিকট শব্দ। আকাশজুড়ে ধোয়ার কুণ্ডলী। চোখে কোনো হতাহত না দেখলেও আমাদের আতঙ্কের শেষ ছিল না। বাড়িতে মাঝেমধ্যে মোবাইলে মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু আতঙ্ক আর হতাশা কিছুতেই পিছু ছাড়েনি। তবু ভরসা ছিল একদিন বাড়ি ফিরবোই।

মনসুরুল আমিন খান বলেন, শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটিয়েছি। বাংলাদেশ সরকার, শিপিং কর্পোরেশন এবং সর্বোপরি রোমানিয়া দূতাবাসের আন্তরিক চেষ্টায় আমরা সুস্থভাবে দেশে ফিরে আসতে পারায় সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

ইউক্রেনে অলিভিয়া বন্দরে নোঙর করা ‘বাংলার সমৃদ্ধি’র নাবিকরা জাহাজ থেকে দ্রুত নেমে আসেন। এরপর এক ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে পড়তে হয় তাদের। স্থানীয় একটি বোট এসে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। আরো নিরাপত্তার জন্য তাদের রাখা হয় বাঙ্কারে।

মনসুরুল আমিন খানের বাবা বিএডিসির সাবেক কর্মকর্তা নুরুল আমিন খান ও মা মর্জিনা খানম ছেলেকে কাছে পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন। তার স্ত্রী আশরুকা সুলতানা ও তিন ছেলে সন্তান ফাহিমি, ফারহান এবং কনিষ্ঠ ছেলে ফারদিনের চোখেমুখে হাসি ফুটে উঠলো।

এ যেন ঘন আঁধারের মধ্যে হঠাৎ চাঁদের আলো দেখতে পাওয়া। সব উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর হতাশার অবসান ঘটেছে কারণ তাদের প্রিয় সন্তান যুদ্ধক্ষেত্র মাড়িয়ে নিজ বাড়িতে ফিরেছে। বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা শহরের নারকেলতলার ‘এখানেই নোঙর’ বাড়িটি যেন আলো ঝলমল করে উঠলো নাবিক মনসুরুল আমিন খান গিনির উপস্থিতিতে।