মাঝরাতে ঘুম ভাঙল লতার, রক্তাক্ত শরীরে ছটফট করছেন হাসপাতালে - Vikaspedia

মাঝরাতে ঘুম ভাঙল লতার, রক্তাক্ত শরীরে ছটফট করছেন হাসপাতালে

মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় লতার। চোখ মেলেই দেখেন ধারালো অস্ত্র হাতে কারা যেন তার গলা কাটতে চান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই জীবন বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তিনি। শুরু করেন ধস্তাধস্তি। কেটে যায় গলা, কান ও হাতের কিছু অংশ। একপর্যায়ে মৃত্যু নিশ্চিত জেনে শুরু করেন চিৎকার। এতেই ধরা পড়ার ভয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ঘটনাটি বগুড়ার ধুনট উপজেলার পুর্বভরণশাহী গ্রামের। স্বামী পরিত্যক্তা নারী ৪১ বছর বয়সী লতা বেগম। তিনি একই গ্রামের আনোয়ার হক দোলার মেয়ে। বছর দশেক আগে তাকে ডিভোর্স দেন স্বামী। এরপর থেকে বাবার বাড়িতেই থাকেন।

স্বজনরা জানেন না লতাকে কারা হত্যা করতে চায়। মিলছে না কোনো সমীকরণ। বর্তমানে তিনি আহত অবস্থায় বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় সন্দেহজনক সজিব হোসেন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সজিব একই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। পেশায় নির্মাণ শ্রমিক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ত্রিশ বছর আগে লতাকে বিয়ে করেন তারই চাচাতো ভাই একই গ্রামের আবুল কালাম। দুজনের মনোমালিন্য না হওয়ায় তাদের সংসার জীবনের সমাপ্তি ঘটে। স্বামী ডিভোর্স দেওয়ার পর থেকেই বাবার টিনের তৈরি ঘরই হয় তার ঠিকানা। অন্যান্য রাতের মতোই বৃহস্পতিবার রাতে খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন লতা। মাঝরাতে বেড়া ভেঙে তার ঘরে ঢোকে দৃর্বত্তরা। ঘুমন্ত লতাকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে তারা। তবে লতার ঘুম ভেঙে যাওয়ায় ও ধস্তাবস্তিতে সফল হতে পারেনি তারা।

পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা লতাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শজিমেক হাসপাতালে নেয়া হয়।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, ঘরে ঢুকে লতাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।