যোগ-বিয়োগের খেলায় অস্থিরতা নগর বিএনপিতে - Vikaspedia

যোগ-বিয়োগের খেলায় অস্থিরতা নগর বিএনপিতে

মহানগর বিএনপিতে শুরু হয়েছে যোগ-বিয়োগের খেলা। সোমবার (২১ মার্চ) ঢাকায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে নগর বিএনপির ভার্চুয়াল সভায় কমিটির অনেক নেতার ডাক পড়েনি।

আবার অনেকে কমিটিতে না থেকেও ভার্চুয়াল সভায় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
আন্দোলন সংগ্রামে থাকা নেতাদের বাদ দিয়ে নিস্ক্রিয়, বিতর্কিত নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে নগর বিএনপির একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন। উত্তর চট্টগ্রামের বাসিন্দা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্যের ইশারায় লন্ডনে থাকা দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ভুল তথ্য দিয়ে এ কাজ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

সোমবার (২১ মার্চ) বিকেল পাঁচটায় ঢাকায় চট্টগ্রামের ৩১ নেতার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক আহ্বান করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সংখ্যা ৩৯ জন। ইতিমধ্যে একজনের মৃত্যু হওয়ায় আছেন ৩৮ জন। তাদের মধ্যে ১৯ জনকে ডাকা হয়েছে সভায়। বাদ পড়াদের সবাই কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন। সবার বিরুদ্ধেই রয়েছে একাধিক মামলা। আবার কমিটিতে নেই এমন ১২ নেতাকেও ডাকা হয়েছে সভায়। হঠাৎ ডাকা ভার্চুয়াল সভায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কি বার্তা দিচ্ছেন- তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।

বর্তমান কমিটিতে নেই এমন ১২ জনকেও সভায় ডাকা হয়েছে। এই ১২ জনের মধ্যে বিএনপি ছেড়ে এলডিপিতে যাওয়া একরামুল করিম, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা কমান্ডার শাহাব উদ্দিন চৌধুরী, বিএনপি করবেন না বলে মুচলেকা দেওয়া এসএমজি আকবরসহ রয়েছেন নানাভাবে বিতর্কিতরাও। এমনিতেই নগর কমিটি গঠন নিয়ে গুঞ্জন চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। এরই মধ্যে সক্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে নিষ্ক্রিয় নেতাদের ডাক পড়ায় সেই গুঞ্জন আরও জোরালো হচ্ছে। নিষ্ক্রিয়দের হাতেই নগর বিএনপি চলে যাচ্ছে, এমন আলোচনায় রীতিমতো নেতা-কর্মীরা নানান প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর প্রথম দফায় গোপন প্রতিবেদন জমা দেন নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, এস এম সাইফুল আলম ও নাজিমুর রহমান। এরপর জানুয়ারিতে ডা. শাহাদাত হোসেন ও আবুল হাশেম বক্কর একটি গোপন প্রতিবেদন জমা দেন। একই মাসে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খানের মাধ্যমে আরেকটি প্রতিবেদন নেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এরপর থেকেই কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণার বিষয়টি সামনে আসে।

আকস্মিকভাবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ভার্চুয়াল সভার খবরে কমিটি গঠনের বিষয়টি সামনে এসেছে। নেতাদের মতে, যেহেতু ৩১ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে; তাদেরকে নিয়ে কমিটি ঘোষণা হতে পারে। অথচ বর্তমান কমিটির মধ্যে যারা ত্যাগী ও সক্রিয় হিসেবে পরিচিত তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ভার্চুয়াল সভায় ডাক পাননি আবু সুফিয়ান, জয়নাল আবেদিন জিয়া, এস এম আবুল ফয়েজ, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, ইসকান্দর মির্জা, আবদুল মান্নান, মাহাবুব আলম, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, নুরুল আলম রাজু, মনজুর আলম চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন লিপু, আবুল হাশেম, গাজী সিরাজ উল্লাহ, মনজুর আলম মনজু, কামরুল ইসলাম, আশরাফ চৌধুরী, শামছুল আলম, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল ও অ্যাডভোকেট মফিজুল হক ভূঁইয়া।

অন্যদিকে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটিতে না থাকলেও সভায় ডাক পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন- কমান্ডার শাহাবুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মনোয়ারা বেগম মনি, একরামুল করিম, এসএমজি আকবর, খোরশেদ আলম, ইসমাইল বালি, মজিবুল হক, আবদুস সাত্তার সেলিম, শেখ নূর উল্লাহ বাহার, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, সিহাব উদ্দিন মুবিন ও মোহাম্মদ আজম।

ভার্চুয়াল সভার বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, নগর কমিটি থেকে ৩০-৩১ জনকে ডাকা হয়েছে। ভার্চুয়াল সভায় কি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ডা.শাহাদাত বলেন, শুনেছি সংগঠনকে গতিশীল করার জন্য ভার্চুয়াল সভা করা হচ্ছে। সেখানে ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা কমিটি নিয়ে আলোচনাও হতে পারে।

সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বাংলানিউজকে বলেন, ভার্চুয়াল সভায় কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, সাংগঠনিক বিষয়েও আলোচনা হবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল বাংলানিউজকে বলেন, নিয়মিত ভার্চুয়াল সভা আহ্বান করা হয়েছে। নগরের সঙ্গে আমাদের হাটহাজারীর একটি ওয়ার্ডের সাংগঠনিক যোগাযোগ রয়েছে। নগর কমিটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে হয়তো অস্থিরতা বিরাজ করছে, সেটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।