সিন্ডিকেট করে আলু পেঁয়াজের দাম বাড়াতে পারলে পুরস্কার দেবে সরকার - Vikaspedia

সিন্ডিকেট করে আলু পেঁয়াজের দাম বাড়াতে পারলে পুরস্কার দেবে সরকার

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, সিন্ডিকেট করে এ বছর আলু, পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বাড়াতে পারলে সরকার তাদেরকে পুরস্কৃত করবে।

বুধবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এফবিসিসিআই ও আরটিভি যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাজেটে প্রত্যাশা ২০২২-২৩’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিমউদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলালউদ্দিন, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, চ্যানেল আইর পরিচালক শাইখ সিরাজ, রাজশাহী চেম্বারের সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু, রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী প্রমুখ।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়াতে আমরা এই বছর অনেকগুলো উদ্যোগ নিয়েছিলাম। পেঁয়াজ একটি পচনশীল পণ্য, রাখা যায় না। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের শেষ দিকে পেঁয়াজের সাংঘাতিক ঘাটতি হয়। অনেক সময় পাশ্ববর্তী দেশ ভারত অনেক বেশি পেঁয়াজ দেয়। তাদের দেশে দাম বেড়ে গেলে অনেক সময় নিষেধাজ্ঞা দেয়। তখন আমাদের দেশে অস্বাভাবিক ভাবে দাম বাড়ে। এই প্রেক্ষিতে আমাদের বিজ্ঞানীরা গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদের উদ্যোগ নেন। গতবার কিছু আবাদ হয়েছিল। তাতে পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছে।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেড়মাস আগে পেঁয়াজের দাম বেশ কমে গিয়েছিল। চাষীরা আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করায় আমদানি বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর পেঁয়াজের দাম বাড়ায় মিডিয়া এবং সুশীল সমাজ বললো আমাদের সর্বনাশ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মসলা পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। আমরা (সরকার) মানুষকে দেখছি না। মানুষ পণ্য কিনতে গিয়ে সর্বশান্ত হয়ে যাচ্ছে। আমরা আবার পেঁয়াজের আমদানির অনুমতি দিয়েছি। এখন আবার দাম কমে যাচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, পত্র-পত্রিকায় আবার লেখা শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক কম। চাষিরাও আমাদের ওপর নানানভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। কৃষক বলছে পেঁয়াজ রাস্তায় ফেলবে। আমি শুধু একটা কথা বলতে চাই। যখনই কোনো পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়ে, নানা কারণ থাকে। তখনই বলা হয় সিন্ডিকেট করে তেলের দাম বাড়াচ্ছে, পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে, আলুর দাম বাড়াচ্ছে। সরকার নিরব। কারণ এসব সিন্ডিকেটের কাছ থেকে মন্ত্রীরা সুবিধা নিচ্ছেন। নানা রকম সুবিধা নিচ্ছেন। আমি এখন বলি যারা এসব বলেন, তারা সিন্ডিকেট করে এবছর আলুর দাম বাড়িয়ে দেন। পেঁয়াজ, রসুনের দামটা বাড়িয়ে দেন। যারা পারবেন সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াতে, তাদেরকে পুরস্কৃত করবে সরকার।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ২০০৮ সালে জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এটা আমাদের তৃতীয় মেয়াদের তৃতীয় বছর চলছে। শুরু থেকেই জাতির কাছে প্রতিশ্রুত ছিল কৃষিকে গুরুত্ব দেওয়া। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমিয়ে নিয়ে আসা। যাতে সব পণ্য নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য। সেই লক্ষ্যেই বাজেটে কৃষিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বা প্রণোদনা যাই বলেন দিয়েছি।