স্ত্রী খুনে স্বামীর সাজা কমে....? - Vikaspedia

স্ত্রী খুনে স্বামীর সাজা কমে….?

নয় বছর আগে ঢাকার খিলগাঁওয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে স্ত্রী পলি আক্তারকে হত্যার ঘটনায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত স্বামী ফারুক সিকদারের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (৩০ মার্চ) বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. সাইফুল ইসলাম খন্দকার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হারুনুর রশিদ, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ আহম্মেদ হিরু।

আসামি ফারুক সিকদারের বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার ছাইলাবুনিয়া গ্রামে। ২০১১ সালে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার চণ্ডলতা গ্রামের সুরুজ মিয়ার মেয়ে পলি আক্তারকে বিয়ে করেন ফারুক। তারা রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

এই ফারুক সিকদার বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুক চেয়ে স্ত্রীকে মারধর করতেন। যৌতুক না দেওয়ায় ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ ফারুক তার স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক পলি আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পলির বাবা সুরুজ মিয়া খিলগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

২০১৬ সালের ১৫ জুন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক সালেহ উদ্দিন আহমদ তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

পরে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামি ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল করেন।

মো. সাইফুল ইসলাম খন্দকার জানান, বাড়ির মালিক এ মামলায় একমাত্র চাক্ষুষ সাক্ষী। কিন্তু সাক্ষ্যে তিনি বলেননি ফারুক সিকদার স্ত্রীর গায়ে আগুন দিয়েছেন। তা ছাড়া যে দুজন চিকিৎসক পলি আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেছিলেন এবং তার বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেছিলেন তারা তখন ডিউটিতে ছিলেন না। এসব বিষয় বিবেচনায় আদালত ফারুক শিকদারকে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন দিয়েছেন।