১৬ বছর একাকিত্ব, ঘরছাড়া করে ছেলে বলল ‘মায়ের অভিশাপ লাগে না’ - Vikaspedia

১৬ বছর একাকিত্ব, ঘরছাড়া করে ছেলে বলল ‘মায়ের অভিশাপ লাগে না’

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই পরিত্যক্ত রান্নাঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ৮০ বছর বয়সী শমেলা খাতুন। তবু বৃদ্ধা মায়ের ঠাঁই হয়নি একমাত্র ছেলে সন্তানের কাছে। মায়ের জন্য ঘর নির্মাণ করতে গেলে পাষণ্ড ছেলের বাধার মুখে ঘর তুলতে পারেননি মেয়েরা।

শমেলা খাতুন উপজেলার বারবাড়িয়া ইউনিয়নের চাইরপাড়া গ্রামের আবদুল জব্বারের স্ত্রী। ১৬ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এক ছেলে ও চার মেয়ের জননী তিনি। ৪৫ বছর বয়সী ছেলে আবুল হাশেম পেশায় একজন কবিরাজ। বিয়ের পর স্বামী-সংসার নিয়ে ব্যস্ত চার মেয়ে।

স্বামীর মৃত্যুর পর জমিজমা লিখে দিতে শমেলা খাতুনকে চাপ দিতে থাকেন একমাত্র ছেলে আবুল হাশেম। জমি নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। একপর্যায়ে শমেলা খাতুনকে ঘর থেকে বের করে দেন। বাধ্য হয়ে পাশের রান্নাঘরে অবস্থান নেন। মাকে ঘর থেকে তাড়িয়েই ক্ষান্ত থাকেননি পাষণ্ড ছেলে। রান্নাঘরের টিনের চালও খুলে নেন হাশেম।

রোদ, ঝড় আর বৃষ্টি মাথায় করে ভাঙা রান্নাঘরে মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন শমেলা খাতুন। মেয়েরা মায়ের কষ্ট দূর করতে সিমেন্টের পিলার, কাঠ, টিন ও বাঁশ দিয়ে মায়ের দোচালা ঘর করে দিতে গেলে বাধা দেন ছেলে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান একাধিকবার নোটিশ পাঠিয়েও কোনো সুরাহা করতে পারেননি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মুখলেছুর রহমান বলেন, বৃদ্ধা মাকে কীভাবে তার সন্তান এভাবে খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখে চোখে না দেখলে বিশ্বাস হতো না। আমি কিছুদিন আগে বিষয়টি দেখে অবাক হয়েছি। এরপর থেকে আমি তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাইনি।

এ বিষয়ে বৃদ্ধার ছেলে আবুল হাশেম বলেন, মায়ের অভিশাপ আমার লাগে না। আমি জীবিত থাকতে ঘর করতে দেব না।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে শমেলা খাতুন বলেন, ১৬ বছর হয়েছে আমার স্বামী মারা যায়। এরপর ছেলে আমাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমি পরিত্যক্ত রান্নাঘরে আছি। আমি আমার স্বামীর ভিটাতে জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত থাকতে চাই। আমি মেয়েদের সহায়তায় ঘর তৈরি করতে গেলে আমার ছেলে বাধা দেয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদুর রহমান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিতে স্থানীয় ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।